গণতন্ত্রের চর্চা কোন পথে?

| বাংলাদেশ প্রতিদিন |
গোলাম মোহাম্মদ কাদের
প্রকাশ : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৫ ০০:০০ টা

কিছু দিন আগে চ্যানেল আইয়ের মধ্যরাতের সংবাদপত্র বিষয়ক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে একটি বহুল প্রচারিত দৈনিকের শ্রদ্ধেয় যুগ্ম-সম্পাদক স্বৈরাচারী আমল বলে এরশাদ সাহেবের সার্বিক শাসনকালকে বোঝালেন। অবশ্য বিষয়টি নতুন কিছু নয়, এ বিশেষণটি সে সময়ের জন্য ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

অন্য একজন শ্রদ্ধাভাজন কলাম লেখক একটি টিভি টকশো অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক চর্চার বর্তমান ত্র“টি-বিচ্যুতির যৌক্তিক কারণ হিসেবে সময়কালের স্বল্পতাকে উল্লেখ করলেন। তার মত হলো গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয় না। চর্চার মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে এর পূর্ণাঙ্গ প্রাপ্তি ঘটবে। উভয় বক্তব্যই সত্যনিষ্ঠ ও যুক্তিসঙ্গত। তথাপি, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রায়নের পূর্ণতা’ এ দুটি বিষয়ে আরও কিছু যোগ করা আবশ্যক মনে করি। একনায়কতন্ত্রে একনায়ক শাসকদের দ্বারা পরিচালিত শাসনকে সাধারণত স্বৈরশাসন বলা হয়। স্বৈরশাসন কথাটার আভিধানিক অর্থ হলো যথেচ্ছাচার শাসন। জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাকে তোয়াক্কা না করে এক ব্যক্তির খামখেয়ালিপনা বা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার প্রয়াসে যে শাসনকার্য পরিচালিত হয় সেটাই স্বৈরাচার। বাস্তবে এ ধরনের কার্যকলাপ নিশ্চিতভাবে উচ্ছৃঙ্খলতায় রূপান্তরিত হয়। স্বৈরাচারী ব্যবস্থায় বৃহত্তর জনস্বার্থ ও অধিকাংশ মানুষের কল্যাণ ব্যাহত হয়। সে কারণে স্বৈরাচার শাসনের মূল রাজতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। বিকল্প হিসেবে গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পৃথিবীব্যাপী জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

সব মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার অর্জনে সহায়ক। সামাজিক ন্যায়বিচার বৈষম্যমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, নিরাপদ সমাজ ও উন্নততর ভবিষ্যতের দিকে দেশকে পরিচালিত করে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন জবাবদিহিতামূলক সমাজ ব্যবস্থা সৃষ্টি। প্রশাসন দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনে সচেষ্ট থাকবে ও আইনের শাসন নিশ্চিত করবে। বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এটা আজ প্রমাণিত যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বস্তরে জবাবদিহিতার পরিবেশ থাকা জরুরি। এটাও আজ স্বীকৃত যে, গণতন্ত্রের চর্চা এ পরিবেশ সৃষ্টিতে সর্বাধিক কার্যকর পদ্ধতি। গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা ও সম্পদের মালিক হয় জনগণ। জনগণের কর্তৃত্বে এ ক্ষমতা ও সম্পদসমূহ বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক কার্যাবলিতে ব্যবহার ও বিলিবণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়। গণতন্ত্র চর্চার বৈশিষ্ট্য হলো যে কোনো পদ্ধতিতে উপরোক্ত কর্মের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটা নিশ্চিত করতে হবে। অঞ্চলভেদে মানুষের শিক্ষাগত ও আর্থিক অবস্থান, সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ইত্যাদির ভিন্নতা থাকে। গণতন্ত্রের মূল বিষয় অর্জনে দেশভেদে পদ্ধতিতে পার্থক্য প্রয়োজন হতে পারে। তাছাড়া গণতন্ত্রায়নের উৎকর্ষতা কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করা যায় না। সে কারণে বলা হয়, গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি বা মূল্যবোধ। বাধাধরা মাপকাঠিতে সুনির্দিষ্ট সীমারেখায় আবদ্ধ কোনো পদ্ধতি নয়। বিভিন্ন দেশে বাস্তবতা ভেদে যথাযথ পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। সঠিক পথে চর্চার মাধ্যমে সদা বিকশিত ও প্রতিদিন এর উৎকর্ষ সম্ভব। তবে মূল বিষয় এক কথায় ‘জনগণ রাষ্ট্রীয় সব ক্ষমতার মূল মালিক; সে ক্ষমতা ব্যবহারে জনগণের সর্বোচ্চ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।’ গণতন্ত্রায়নের জন্য এটাই সঠিক পথ। এ লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতি হলে গণতন্ত্রায়ন বিপথগামী হবে। ভুল পথে চর্চা করা হলে স্বাভাবিকভাবেই গণতন্ত্রের উন্নয়ন বা উৎকর্ষ হতে পারে না, বরং তা গণতন্ত্রকে ধ্বংসের দিকে পরিচালিত করে।

যে কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে বিভিন্ন কল্যাণমূলক দায়িত্ব পালনে প্রশাসনিক বিন্যাস বা নির্বাহী বিভাগ রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে তৈরি করা হয়। কার্যসম্পাদনে প্রয়োজনীয় নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করার কর্তৃত্ব তাদের থাকে। যেহেতু সব ক্ষমতার সার্বিক মালিক জনগণ, তারা তাদের মালিকানা স্বত্ব ব্যবহারের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। এসব প্রতিনিধি নির্বাহী কর্ম সম্পাদনে নেতৃত্ব দেন। প্রয়োজনে তারা প্রশাসনিক কার্যাবলির পুনর্বিন্যাসে ও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারেন। ক্ষমতা ব্যবহারের স্বত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া হলো নির্বাচন যা অবাধ, প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়া জরুরি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে এ দায়িত্ব পালনে যথেষ্ট শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে। উপযুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন সৃষ্টি ও উক্ত গুণাবলি ক্রমান্বয়ে বর্ধিত করা গণতন্ত্র চর্চার অন্যতম সঠিক পথ। নির্বাহী কর্মকাণ্ডের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সম্পাদনে ও সার্বিক পরিচালনায় জনগণের মতামত ও প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ দৃশ্যমান হতে হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদের মাধ্যমে এ কাজটি সম্পাদনের কথা। সুষ্ঠুভাবে এ কাজটি করার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সংসদ। যথাযথ সংসদ বলতে বুঝায় এমন সংসদ যেখানে সরকারের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন, শক্তিশালী ও কার্যকর বিরোধী দল আছে। জনগণের মধ্যে এ আস্থা থাকতে হবে যে, প্রয়োজনে বিরোধী দল বিকল্প সরকার প্রদানে সক্ষম। সে ধরনের উপযুক্ত বিরোধী দল না থাকলে সংসদ যথাযথ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে না। ফলে সংসদে সরকারি দলকে সমানভাবে মোকাবিলা করতে পারে এমন বিরোধী দল সৃষ্টির চর্চা গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা। আইনের শাসন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত। আইনের শাসন কার্যকর হয় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্ষম বিচার বিভাগের দ্বারা। ফলে গণতন্ত্র চর্চার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ যত বেশি নির্বাহী কর্তৃত্বের বলয়মুক্ত, দলীয় বা অন্য যে কোনো ধরনের পক্ষপাতদুষ্টমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, সময়োচিত ন্যায়বিচার প্রদানে কার্যকর হবে ততই দেশ গণতন্ত্রায়নে অগ্রগামী হবে। জবাবদিহিতামূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমসমূহ অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি, সুশাসন প্রতিষ্ঠাও সে কারণে গণতন্ত্রায়নের সহায়ক। গণমাধ্যমসমূহের স্বাধীনতা অর্থাৎ নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ গণতন্ত্র চর্চা মূল্যায়নের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তাছাড়া গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সাংবিধানিকভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ইত্যাদি নির্বাহী বিভাগের বা ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভ‚মিকা রাখার উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়। তাদের দায়িত্ব থাকে ক্ষমতার প্রকৃত মালিকানার শরিক জনগণ দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্ষমতাসীনদের কর্তৃত্বের অপব্যবহারে বঞ্চিত ও অত্যাচারিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম হতে হলে এ ধরনের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ নির্বাহী বিভাগ বা ক্ষমতাসীনদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য ক্ষমতা বলয় থেকে মুক্ত ও স্বাধীন হওয়া বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়ে যত বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে তত বেশি গণতন্ত্রের চর্চা হচ্ছে বলা যাবে। উপরে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানসমূহ যেমন প্রধানত নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ, বিচার বিভাগ, অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যম ও তৎসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ইত্যাদি নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ শক্তিশালী ও কার্যকর হওয়া গণতন্ত্রের চর্চায় বাঞ্ছনীয়। সময়ের সঙ্গে এ যোগ্যতাসমূহ বৃদ্ধি পাচ্ছে লক্ষ্য করা গেলেই শুধু গণতন্ত্রের সঠিক পথে দেশ অগ্রসর হচ্ছে বলা যায়। যদি উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ কার্যকারিতায় জনগণের আস্থা হারাতে থাকে, তবে দেশ অগণতন্ত্রায়নের পথে অগ্রসরমান ধরে নেওয়া যায়। সময়ের সঙ্গে এক্ষেত্রে গণতন্ত্র বিকশিত না হয়ে বরং বিলুপ্তির পথে ধাবিত হয়। উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মকাণ্ড যদি যে কোনোভাবে নির্বাহী প্রধান (আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী)-এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কর্তৃত্বের আওতায় এসে পরে তবে দেশে একনায়কতন্ত্র (যে শাসন ব্যবস্থায় একব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভ‚ত থাকে) চালু হয়েছে বলা যায়। এই একক ক্ষমতাধারী ব্যক্তি যত বেশি প্রতিষ্ঠানসমূহেরই কার্যকলাপে নিয়ন্ত্রণমূলক প্রভাব বিস্তার করবেন তত বেশি স্বৈরাচারী হবে শাসন ব্যবস্থা। একক ব্যক্তির কর্তৃত্বের আওতায় ওইসব প্রতিষ্ঠান নির্বাহী বিভাগের বা পরস্পরের জবাবদিহিতা গ্রহণের পরিবর্তে সে ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষার্থে যোগসাজশে কার্য পরিচালনায় বাধ্য হবে এটাই স্বাভাবিক। সাধারণ গণমানুষের দৃষ্টিতে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন, সংসদ, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ইত্যাদি নির্বাহী বিভাগের প্রধানের প্রভাব বলয় থেকে কতটুকু স্বাধীন? তাদের ওপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালনে তারা কতটুকু নিরপেক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠা বজায় রাখতে বা কার্যকরী হতে সক্ষম? এ বিষয়ে অতীতের তুলনায় বর্তমান অবস্থা কী ও ভবিষ্যৎ কোন দিকে ধাবমান? বর্তমান ব্যবস্থা চলমান থাকলে ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিরপেক্ষতা ন্যায়নিষ্ঠা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির পথে না হ্রাসের পথে অগ্রসর হবে?

উপরোক্ত বিষয়সমূহের ওপর গৃহীত জনমতের ভিত্তিতে বলা যায় যে, অধিকাংশ জনগণের ধারণা দেশে গণতন্ত্রের চর্চা বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন গণতন্ত্র চর্চার নামে অগণতন্ত্রায়নের পথে দেশ অগ্রসর হচ্ছে। গণতন্ত্রের লেবাসে একনায়কতন্ত্র বা একনায়কের স্বৈরশাসন চালু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, মানুষের ধারণা এরশাদের শাসনকাল একমাত্র স্বৈরাচার আমল নয়। ফলে স্বৈরাচারের সময় বলে শুধু সে সময়কে বোঝালে তা কিছুটা ভ্রান্তির সৃষ্টি করে। শক্তিধরের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট দ্বৈত নীতি বলে সংশয়ের অবকাশ থাকে। আগেই বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মূল চাহিদা সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এটাও বলা হয়েছে, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন জবাবদিহিতামূলক সমাজ ব্যবস্থা যা গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতিতে সর্বাধিক সুনিশ্চিত করা যায়। সে কারণে মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সর্বদাই সচেষ্ট থাকে ও আন্দোলন চালিয়ে যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক আন্দোলন, ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্যদিয়ে রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ সংগ্রাম এখনো অব্যাহত আছে। কিন্তু এটাও লক্ষ্য করা যায়, গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হওয়ার পরও অনেক দেশে এ চর্চাকে বিপথগামী করা বা পুনরায় একনায়কতন্ত্রের পথে দেশ ঠেলে নেওয়ার প্রচেষ্টা থেমে নেই। ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। সে কারণে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাঝেও একক নেতৃত্বে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বিভিন্ন উপায়ে যেমনÑ সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে বা প্রশাসন/নির্বাচন কমিশন দলীয়করণের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থায় কারচুপির আশ্রয় নিয়ে ক্ষমতা দখল ও চিরস্থায়ী করা ইত্যাদি প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। গণতন্ত্র চর্চার দুর্বলতার ফাঁকফোকর গলে একনায়কতন্ত্রের প্রবেশ ঘটতে দেখা যায়। এসব কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। ক্রমান্বয়ে এ প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের মূল উৎপাটিত হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে জনজাগরণ ও গণঅভ্যুত্থান ছাড়া গণতন্ত্র পুনঃস্থাপন অসম্ভব হয়ে ওঠে। ইতিহাসের শিক্ষা এসব কর্মকাণ্ডে দেশ ও জাতি যেমন বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি শাসক শ্রেণিরও শেষ রক্ষা হয় না। চরম লাঞ্ছনার তিক্ত স্বাদ গ্রহণ ছাড়াও সাধারণত এ ধরনের শাসকদের স্থান হয় ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়গুলো উপলব্ধি করবেন এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে গণতন্ত্রের চর্চাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এগিয়ে আসবেন এটাই আজ জনগণের প্রত্যাশা।

লেখক : সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

G M Quader