জাতীয় পার্টিকে আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হচ্ছে

Publish on 09/05/2017 9:00 AM | manobkantha
জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি ও যারা মন্ত্রি পরিষদে আছেন তারা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন অথবা পার্টি থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে, এ সিদ্ধান্তটি জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছিল প্রায় বছর দেড়েক আগে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। গত শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসভবনে মানবকণ্ঠকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় হাওরবাসীর ব্যাপারে জাপার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও তিস্তা চুক্তি না হওয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হাতে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডে সরকারের বাধা, পার্টির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের দ্বৈত সিদ্ধান্ত, আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের টেন্ডারবাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আগামী নির্বাচনে মহাজোটে জাপা থাকবে কি থাকবে না, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ক্ষমতার রাজনীতিতে আর কতদিন সিঁড়ি হয়ে থাকবে জাপা, সাম্প্রতিক হেফাজত ইস্যুতে জাপার বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে আঁতাত, বিএনপি ও জাপার মধ্যে আদর্শিক অমিল, জনগণের অধিকার, রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির সার্বিক পরিস্থিতিসহ এ প্রতিবেদকের সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের।

সম্প্রতি জাতীয় পার্টির সংসদীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সরকারের মন্ত্রী সভা থেকে জাতীয় পার্টির মন্ত্রীরা পদত্যাগ করবেন। কিন্তু অতীতে এ কথা বহুবার বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। এবারও কি তাই হবে? এমন প্রশ্নে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত এমপি ও যারা মন্ত্রি পরিষদে আছেন তারা মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করবেন অথবা পার্টি থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে, এ সিদ্ধান্তটি জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছিল প্রায় বছর দেড়েক আগে। পার্টির চেয়ারম্যানের ওপর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। গণমাধ্যমের খবরে বিষয়টি জনগণ তখন অবগত হয়েছিলেন। জানা মতে, চেয়ারম্যান মহোদয় সমঝোতার ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বাস্তবতা হলো, মন্ত্রীদের অসম্মতি ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে এ বিষয়টি এতদিন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সংসদীয় কমিটির সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত যদি হয়ে থাকে তাহলে প্রতিবন্ধকতা অবসানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলা যায়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এখন অনেক উজ্জ্বল বলে মনে করি।

এক প্রশ্নে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট যেমন সম্পদের সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য, শিক্ষার নিম্নহার, সামাজিক ন্যায় বিচারের অভাব ইত্যাদি মানুষকে প্রায়শ হতাশায় নিমজ্জিত করে। যার কারণে তারা চরম পন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে সহজে। ধর্মীয় আবেগ এ অবস্থায় ইসলামী মৌলবাদ ও সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদের দিকে মানুষকে আকৃষ্ট করে। তবে এটা সত্য যে, বাংলাদেশের জনসমষ্টির সিংহভাগ ধর্মভীরু হলেও ধর্মীয় বিষয়ে বাড়াবাড়ি পছন্দ করে না বা সম্প্রদায়িক মনোবৃত্তির নয়। তারা ইসলামী জঙ্গিবাদকে অপছন্দ করে। সে কারণে জঙ্গিবাদের উত্থান যেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একই সঙ্গে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে জনমানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সহযোগিতা দান করছেন, এটাও দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি জঙ্গিবিরোধী অভিযান ও এ সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারি বিবৃতি ও বর্ণনা জনমনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় সৃস্টি করছে লক্ষ্য করা যায়। স্বচ্ছতার সঙ্গে যৌক্তিকভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরে জনগণের ভুল বুঝাবুঝির অবসান বাঞ্ছনীয়। তাহলে ভবিষ্যতে জনগণের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে যা সমস্যা সমাধানকে সহজতর করবে।

হাওরবাসীর ব্যাপারে জাতীয় পার্টির ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, হাওরবাসীর সমস্যার বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও সমাধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর তেমন কিছু করণীয় নেই। সরকার ওয়াকিবহাল ছিলেন ও আছেন এবং সাধ্যমতো কাজ করছেন। এ বিষয়ে কিছু মিটিং মিছিল করা, গণমাধ্যমে ছক বাধা কিছু বক্তব্য ‘দেয়া’ বা ‘না দেয়া’ সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখে বলে মনে হয় না। আমাদের গতানুগতিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে এ ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয় আলোচনায় আসে, আমি এর সঙ্গে একমত নই।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ও তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন না হওয়া ছাড়া, অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর মোটামুটি ফলপ্রসূ বলা যায়। তিস্তা চুক্তি না হওয়ার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমতি মমতা ব্যানার্জি। এ চুক্তি হলে যে অতিরিক্ত পানি শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশকে দিতে হতো তাতে পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তার অঞ্চলের নিম্নবিত্ত এ জনসমষ্টির লোকসান পূরণের ব্যবস্থা না করে পানি দেয়া হলে, সেটা তার কাছে দায়িত্বহীনতা বা তার ওপর জনগণের অর্জিত আস্থা-বিশ্বাস ভঙ্গের সামিল মনে করে তিনি এতে রাজি হননি বলে ধারষা করি। নিজের জনগণের কাছে জবাবদিহিতার ও দায়বদ্ধতার কথা চিন্তা করে তিনি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আশা করি ভবিষ্যতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে তাদের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সম্মতি আদায়ে সক্ষম হবেন। অবশ্য আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পূর্বেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে উভয় দেশেরই সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধন অধিকতর জোরদার হতো। তবে, এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার আমাদের আশাবাদী করেছে।

আইন শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জাপার কো-চেয়ারম্যান বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড মানবতাবিরোধী ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী। আমাদের সংবিধান স্বীকৃত অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ক্ষণস্থায়ী কিছু তাৎক্ষণিক সুফল দৃশ্যমান হলেও বাস্তবতা হলো বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনো সমস্যার নিরসন করে না ও কখনই কারও জন্য সুফল বয়ে আনে না।

বিএনপিসহ কিছু কিছু রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে আসছে তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সরকার বাধা দিচ্ছে, এ বিষয়ে জিএম কাদের বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করার প্রেক্ষিতে যে কোনো ক্ষয়ক্ষতি সেটা যার দ্বারাই হোক না কেন, তার দায়-দায়িত্ব কর্মসূচি ঘোষণাকারী দলকে নিতে হবে, এ ধরনের আইন পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। আমাদের দেশে এ ধরনের আইন নেই, তবে প্রায়শ অনেক ধ্বংসাত্মক ও সহিংস কার্যকলাপ রাজনীতির নামে সংঘটিত হতে দেখা যায়। মিছিল মিটিং থেকে হরতাল অবরোধের সময় স্বাভাবিক জনজীবনে বিঘœ ঘটে ও সন্ত্রাসের কারণে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে দেখা যায় সাধারণ মানুষকে। সরকারের দায়িত্ব থাকে এগুলো থেকে মানুষকে নিরাপদে রাখা। সে কারণে ওই ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতির বিধান দীর্ঘ দিন থেকে প্রচলিত সুনির্দিষ্ট কারণ থাকলে অনুমতি না দেয়ার বিধান সংবিধান সম্মত, বলা যায়। তবে, শান্তিপূর্ণভাবে সংঘটিত হবে নিশ্চিত জেনেও অনুমতি প্রদান না করা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে বিঘœ সৃষ্টি করা এবং তা সংবিধানে প্রদত্ত অধিকারের লঙ্ঘন ও বাঞ্ছনীয় নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যানের দ্বৈত সিদ্ধান্তের ফলে পার্টির শীর্ষ নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, এ ধরনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে কাদের বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পার্টির সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। অন্য যে কোনো পক্ষ থেকে কোনো মত আসলে যদি তিনি তা মেনে নেন তাতে কোনো কোনো সময় কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে সত্য, তবে তাতে দ্বৈত সিদ্ধান্ত বলা যায় না।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের টেন্ডারবাণিজ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের দ্বারা সারাদেশে টেন্ডার বাণিজ্য, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির অভিযোগ শুধু বর্তমান সরকারি দলের জন্য প্রযোজ্য নয়। ৯০ পরবর্তী সব সরকারের আমলেই এটা হয়ে আসছে ও ক্রমান্বয়ে বৃহত্তর আকারে ও পরিসরে এর ব্যাপ্তি ঘটছে। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানের পরিস্থিতিও অপেক্ষাকৃত বর্ধিত বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযোগ শুধু বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্য থেকে নয় দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ থেকেই এ অভিযোগ আসছে, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের মধ্য থেকেও সময় সময় ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি গণমাধ্যমে বলছেন আগামী নির্বাচনে মহাজোটে জাপা থাকবে, এ ক্ষেত্রে জাপার অবস্থান কি জানতে চাওয়া হলে কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কোথায় অবস্থান নেবে তা নির্বাচনের আগে যথাসময়ে পার্টির নীতি নির্ধারকদের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতি, বাহ্যিকভাবে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ তবে সবাই কিছুটা উদ্বিগ্ন ভবিষ্যৎ নিয়ে। সে অর্থে সার্বিক পরিস্থিতি হলো উপরিভাগে স্থিতিশীল, তার নিচে তলদেশে একটি অস্থিতিশীল স্রোতধারা বিদ্যমান, এমনটি বলা যায়।

জাপার কিছু নেতা বিএনপির দিকেও ঝুঁকছে, এটা কতটা সত্য। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের কিছু নেতা বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, এটা আমার জানা নেই।

ক্ষমতার রাজনীতিতে আর কতদিন সিঁড়ি হয়ে থাকবে জাপা- এমন প্রশ্নে জাপার কো-চেয়ারম্যান ও এরশাদের ছোটভাই বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলসমূহ এখন দুটি প্রধান জোটের আওতাধীন। বর্তমানে এ দুটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এ দুটির যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের স্থলে জাতীয় পার্টি যতদিন নিজেকে কোনো একটি জোটের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারবে ততদিন তাকে নিয়ামক শক্তি বা ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতে হবে। নিয়ামক শক্তি হিসেবে নিজেকে সে অবস্থানে ধরে রাখাও একটি চ্যালেঞ্জ। জাতীয় পার্টি ভবিষ্যতে অস্তিত্ব সংকটে যাতে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে এটা ধরে রাখা আবশ্যক।

সাম্প্রতিক হেফাজত ইস্যুতে জাপার বক্তব্য কী জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম এক শ্রেণির মানুষের মত প্রকাশের মঞ্চ। এ মানুষগুলো ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের’ নাগরিক হিসেবে অন্যান্য প্রত্যেকটি নাগরিকের ন্যায় রাষ্ট্র পরিচালনাকারী ক্ষমতার অংশীদার। তাদের মতামত শুনতে হবে, বিবেচনা করতে হবে। তারাও দেশের মালিকানা স্বত্বের অধিকারী- এ কথাটি ভুললে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী তাদের মতামতে গুরুত্ব দিয়েছেন- এটা গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী যৌক্তিক। তাছাড়া, সরকারি দল আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের সঙ্গে এ কার্যক্রম সাংঘর্ষিক নয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সরকারের সঙ্গে আঁতাতের ফলে জাপার তৃণমূল ভেঙে পড়ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তৃণমূলে জাতীয় পার্টি অটুট আছে। অতি সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দলের কয়েকটি সমাবেশে দেশের সব স্থান থেকে তৃণমূলের অংশগ্রহণ আমাদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

বিএনপি ও জাপার মধ্যে আদর্শিক অমিল কী জানতে চাওয়া হলে কাদের বলেন, বিএনপি, জাপা ও আওয়ামী লীগের মধ্যে আদর্শিক কোনো অমিল নেই। নীতি আদর্শের প্রশ্নে তিনটি দলই মধ্যপন্থি, একই সঙ্গে কিছুটা ধর্ম নিরপেক্ষ, কিছুটা সাম্প্রদায়িক। জনগণের অধিকার ও দুর্ভোগসহ নানা ইস্যুতে বিএনপির মতো জাপারও কেন দৃশ্যমান ভূমিকা নেই- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে একমাত্র সরকার ও সরকারি দল ছাড়া মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আর কারো কোনো ভূমিকা আছে বলে মনে হচ্ছে না। তাহলে কী শুধু ক্ষমতার জন্যই রাজনীতি। এমন প্রশ্নে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা বলব না, বস্তুত ‘দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালনের কর্তৃত্বই’ সব দেশের সব রাজনীতির মূল লক্ষ্য। উক্ত লক্ষ্য বাদ দিয়ে জনকল্যাণমূলক অন্যান্য যে কোনো কার্যক্রমকে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি বলা যায়, রাজনীতি নয়।

সর্বশেষ জাতীয় পার্টির সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এক কথায়, অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি রাজনৈতিক দল যাকে আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হচ্ছে।

G M Quader